আমার পরিচয় ও জীবন বৃত্তান্তঃ
আমি সাইফুল্লাহ মানসুর ( ডাকনাম আবির ), পেশায় আমি ও আমার স্ত্রী স্টুডেন্ট। আমার জন্ম হয়েছিল যখন ১২ রাশির মিলন ঘটেছিল ও আকাশে ১২ জুয়াডিক সাইন প্রকট হয়েছিল। যে দিন টি ছিল জন্মাষ্টমীর দিন ও স্বয়ং রাসূলের (সা:) ও শ্রীকৃষ্ণর জন্ম প্রহর, সোমবার। অর্থাৎ আমি ১২ রাশির সমাহারের জাতক রাশি ধারণকারী। জন্ম নাম রাখা হয় সাইফুল্লাহ মানসুর আবির। সাইফুল্লাহ= আল্লাহর তরবারী, মানসুর= সাহায্যকারী, আবির= সকল সুন্দর রং এর সমাহার। বয়সের সাথে সাথে কথা বলার পূর্বেও আল্লাহর পবিত্র ৯৯ নাম ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ গুলোতেও বিদ্যমান আল্লাহর নাম গুলো অটোমেটিক আমার ক্বলব থেকে জিকির হওয়া শুরু হচ্ছিল। যখন ৪ বছরের হলাম, তখন আল্লাহর প্রেমে চোখ থেকে অশ্রু ঝড়া শুরু হল। ঘুমের মাঝে আল্লাহর নাম রাসূলের কথা বলে চিৎকার করতাম। নামাজ রোজায় কমতি ছিলোনা আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ পুরা মাদরাসা লাইফে ফার্স্ট বয় ছিলাম। পাশাপাশি আড়াই বছরে আল কুরআনের হাফেজ হয়েছি। রাতে তাহাজ্জুদের সময় দেখতাম অনেক বুযুর্গ লোক পিছনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতেছেন। কিছু মজার ঘটনা বলি। একবার বিনাকারণে মাদ্রাসার হুজুর আমার গায়ে বেতের আঘাত করলে, সেই রাতে দুটো সাদা বড় হাত জানালার ভিতর থেকে এসে ওনাকে অনেক আঘাত করে। পরেরদিন বেচারা ক্ষমা চায় ও মাদ্রাসা দিয়ে চাকুরী ছেড়ে চলে যায়। আস্তে আস্তে কলবের জিকির এত বৃদ্ধি পায় যে নিজের দুই কানে কলবের জিকির শুনতাম। অনেক হুজুরের কাছে গিয়েছিলাম কথা বলছিলাম কিন্তু কোন পীর সাহেব সঠিক উত্তর দিতে পারেনি৷ বয়স যখন ৮ তখন দেখি শুধু কোরআন নয় পৃথিবীর অন্যান্য অনেক বড় বড় ধর্মের ধর্মগ্রন্থর জ্ঞান গুলো কীভাবে যেন আমার আয়ত্তে চলে আসে। পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থের যাযা বিকৃত হয়েছিল তাও জানতাম।বয়স ৮.৫ থেকে দেখা শুরু করি অলৌকিক জিনিস, অলৌকিক স্বপ্ন। মুখ থেকে যা বলতাম ৯৫% কথা সত্য হত। এই সমস্যার কারনে আমার মায়ের পা ভাংগা আমার পিতার এক্সিডেন্ট সহ আরো অনেক ঘটনা ঘটে। ৮.৫ বছরের আমি কোরআন ও ভগবত গীতার বাণী ভক্তিযোগ, কর্ম যোগ, জ্ঞান যোগ, বিশ্বরুপ দর্শন যোগের অনেক তত্ত্ব জানতাম। আস্তে আস্তে অলৌকিকত্ব বাড়তে থাকে। আমি সমস্ত দিন রাত দায়েমী ইবাদত এ থাকি। এমন অবস্থায় ইলহাম এর সূত্রপাত ঘটে। প্রথম প্রথম বুঝতাম না ইলহাম মানি কী! স্বপ্নে দেখতাম। সজাগ থাকা অবস্থায় ও ডাইরেক্ট ক্বলবে বানী আসত। এভাবেই দিন চলতে থাকলো।আমালিয়াত অলৌকিক ভাবে শিক্ষা গ্রহণ করা শুরু করলাম। শিক্ষা গ্রহণ কিংবা ইলহাম কিংবা অলৌকিক অনুভূতি কিংবা স্বপ্ন কোনটাই আমার ইখতিয়ার এ ছিলনা। লুৎফুর রহমান ক্যাডেট মাদরাসায় ক্লাস ৪ থেকে ক্লাস ১০ পর্যন্ত ছিলাম, প্রতিবার ফার্স্ট বয় ছিলাম আমি। পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসি তে বিভাগে যথাক্রমে ২য়, ৩য় ও ৫ম হয়েছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ। একজন হাফেজ হবার সাথে সাথে অভিনয়, ভাষণ, সংগীত সহ সকল কারিকুলাম এ দক্ষ বানিয়ে পাঠিয়েছেন মালিক আমায়। ক্লাস ফোর থেকেই ইসলামী সংগীত ও কেরাত তিলাওয়াত এ প্রথম হতে শুরু করলাম৷ দেশাত্ববোধক গান, হামদ, নাত, পিতামাতার শানে গান ও ইসলামীক আদর্শে উজ্জীবিত করার গান লিখতাম। দীর্ঘ ৭ বছর ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ও নিজ মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে ৬৫ এর অধিক পুরষ্কার প্রাপ্ত হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। আমার তিলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত ছাড়া কোন অনুষ্ঠান সেই মাদ্রাসায় শুরু হত না।এইচএসসিতে জেনারেল লাইনে পড়া শুরু করলাম। মাত্র অল্প কিছু পয়েন্টের জন্য সরকারী মেডিকেল এ চান্স না হওয়ায়, পিতামাতা মানিকগঞ্জে এম্বিবিএস এ ভর্তি করাল। মেডিকেল এ ভর্তি হবার ২ বছর পর স্বপ্নাদেশ পেলাম ইউটিউব চ্যানেল খুলে মানুষ কে আমালিয়াত শিক্ষা দেবার। এতদিন এ মাওলার দয়ায় অনেক কামালিয়াত ও আমালিয়াত অর্জন করেছিলাম যা মুখে বলা সম্ভব নয়। বর্তমান জমানায় আমি সূরা মুয্যাম্মিল ও আসমাউল হুসনা সহ আল্লাহর সকল গুণাবলি নামের আমিল। রুহানি সফর থেকে শুরু করে অনেক অনেক অনেক মহাপুরুষ ও আউলিয়ার ও সাহাবার রুহের দর্শন লাভ করেছি আলহামদুলিল্লাহ। অনেক বছর রমযানে বিনামূল্যে খতম তারাবিহ পড়িয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। চ্যানেলে মানুষের অনুরোধে বিভিন্ন সার্ভিস চালু করলাম। সার্ভিসের হাদিয়া গুলো গরিব দুঃখী ও এতিমদের খাবারের জন্য ও ধর্মের কাজে ব্যবহার করা শুরু করলাম। আমি কখনোই নিজের পরিচয় প্রকাশ করিনি কারন মানুষের কাছে সম্মান বা মানুষের কাছে জয়গান শুনে নিজের অহংকার বৃদ্ধি করতে আমি চাইনি। আল্লাহর আদেশে নিজের নাম আব্দুর রহমান তথা রহমানের বান্দা নামে প্রকাশ করলাম। নিজের ফ্যামিলি স্টাটাস, নিজের পরিচয় দিয়ে অহংকারের পাত্র হতে আমি চাইনি, কিন্তু যারা ভাবেন চ্যানেল দিয়ে আমি মানুষের টাকা আত্মসাত করি, পড়াশোনার খরচ চালাই, তাঁরা প্লিজ আমার ফ্যামিলী ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করে আসেন, আমি নিজে বলবোনা। কারন বাস্তবিক অর্থে আমার নিজের কোন পরিচয় ই নেই। সব আল্লাহর ইচ্ছা। এই নশ্বর জীবনে, আমার দ্বারা অনেক রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব সহায়তা লাভ করেছে, এটা আমার স্বার্থকতা।
আমার পঞ্চ রুহুর ১ টি রুহুর নাম আমিলে কামিল হাফেজ গুরু আব্দুর রহমান।
আপনাদের উপকারে আসার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসে আমার সাথী ছিল- আমার স্ত্রী, আমার ছোট বোন সাদিকা, আমার মামাত বোন আফরোজা (গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট)। আমার বড় মামাত বোন অ্যাডভোকেট রাজিয়া সুলতানা আপু, আমার মামা অ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক (বিভাগীয় বার কাউন্সিলের সভাপতি)। আমার পিতা শাহে আলম সিকদার (অবসরপ্রাপ্ত লোন অফিসার; সোনালি ব্যাংক)। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবোনা।
মানুষের পরিচয় বহন করে তাঁর কর্ম ও তাঁর জ্ঞান। আল্লাহ মানুষের বেশ ভূষা নয়, তাঁর দিল ও তাঁর কর্ম দেখে তাকে জ্ঞান প্রদান করে থাকেন। সোলাইমান ন্যাংটা আজীবন ন্যাংটা ছিল তবুও সে মহান একজন আল্লাহর অলি ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। অনুরুপ পৃথিবীর এমন অনেক রাস্তায় রাস্তায় পাগল চলমান যাদের দিলে আল্লাহর আরশ।
বুজুর্গি এবং মর্যাদা কেবল নবুয়তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বুজুর্গি হল পরিপূর্ণতা। বেলায়েতের পথে তা অর্জিত হয়। রহস্যলােক ও অদৃশ্য জগৎ এর পরিমণ্ডল। এখানে যার ক্ষমতা বেশি তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী বুজুর্গ। রাসূল ( সাঃ ) -এর বাণী দ্বারা এই কথা বহুভাবে প্রমাণিত। প্রসঙ্গক্রমে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়। হযরত মূসা ( আঃ ) এর সময় একাধারে সাত বছর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়। এ সময় এলাকায় বৃষ্টিপাত বন্ধ ছিল। হযরত মূসা ( আঃ ) তাঁর ৭০ হাজার লােক নিয়ে বৃষ্টির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছিলেন। এমন সময় দৈব আওয়াজ এল বাররাখ নামে আমার এক বিশিষ্ট বান্দা আছেন, তিনি যদি তােমাদের জন্য বৃষ্টি প্রার্থনা করেন তাহলে বৃষ্টি হবে। অতঃপর হযরত মূসা ( আঃ ) হযরত বাররাখের সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় আবার আওয়াজ এল , তিনি মাঠে বেড়াতে গেছেন। এমন সময় দেখা গেল জনৈক ব্যক্তি গায়ে কাপড় জড়ানাে অবস্থায় একটি অন্ধ গলিপথে দ্রুত পথে চলমান। বস্তুত তার চেহারায় দীপ্ত দৈবজ্যোতি দেখে হযরত মূসা কালিমুল্লাহ্ উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কে? জবাব আমি আল্লাহর বান্দা বাররাখ। তখন মুসা কালিমুল্লাহ্ বলেন আপনার নিকট আমার একটি নিবেদন আছে , তখন আরিফ বিল্লাহ্ হযরত বাররাখ বললেন , বলুন যা বলার আছে। তখন হযরত মূসা ( আঃ ) তাঁর প্রাপ্ত ওহীর কথা তাকে জানান। অতঃপর মাহবুবে সােবহানী হযরত বাররাখ বললেন , চলুন ময়দানে যাই। ময়দানে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে হযরত বাররাখ বলতে শুরু করেন,
হে আল্লাহ আজ তােমার শক্তি কমে গেছে। তােমার দৃষ্টি কাজ করে না, কান শুনে না, হাতও চলে না এবং বাতাস ও পানি তােমার কথা মানে না। এজন্য বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেছে।
অনুরূপ অর্থহীন প্রলাপ করতে করতে আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে ; কিছুক্ষণের মধ্যেই এ প্রলাপের ফলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যায়। ফলে মাঠে হাঁটু সমান পানি প্রবাহিত হলে তিনি হযরত মূসা ( আঃ ) কে নিয়ে উঁচুতে উঠেন এবং তাকে বলেন দেখেছেন আমি আপনার আল্লাহকে কত গালমন্দ করলাম। এতে গােশশা হয়ে হযরত মূসা ( আঃ ) তাকে কিছু বলার জন্য উদ্যত হলে , হযরত জিব্রাঈল ( আঃ ) এসে হযরত মূসা ( আঃ ) কে বলেন , আল্লাহ্ বলেছেন তার মরমী বন্ধুর সাথে বেয়াদবি করলে আপনার নবুয়ত কেড়ে নেওয়া হবে। তার এ বন্ধু দৈনিক তিনবার তাঁর সাথে এরূপ হাসি তামাশা করেন। ( এহইয়াউল উলুম থেকে )।
অতএব উপরিউক্ত ঘটনা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে , বুজুর্গি কেবল নবুয়তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বুজুর্গি পরিপূর্ণতা এবং ইচ্ছাশক্তি যা বেলায়েতের পথে অর্জিত হয় যার পরিমণ্ডল রহস্যলােক ও অদৃশ্য জগৎ। এ প্রসঙ্গে হযরত খিজির পাক ( আঃ ) -এর মর্যাদার কথা স্মরণ কর। তাঁর কাজকর্ম বাহ্যত নবুয়তের জ্ঞানের বিপরীত ছিল। এজন্য হযরত মূসা কালিমুল্লাহ্ তাঁর কাছে লজ্জিত হন। তবে এ দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় না যে, নবীগণ বুজুর্গ নন। বরং এ দ্বারা যে কথাটা পরিষ্কার প্রমাণিত হল তা এই , যে নবুয়ত বেলায়েত জয়ী হয় তা উত্তম। কারণ বেলায়েত নবুয়তের মূল উৎস। বস্তুত নবুয়ত বেলায়েতেরই প্রকাশ।
এ প্রসঙ্গে হযরত ঈমাম গাযযালী ( রঃ ) আপন গ্রন্থ ‘ কিমিয়ায়ে সায়াদাত এ বলেনঃ
বেলায়েত হল ব্যাপক। অর্থাৎ অলি নবুয়তপ্রাপ্ত হলে নবী হন। তা না হলে তিনি অলি থাকেন। জামেনূরের দ্বিতীয় খণ্ড তথা মাতলাউল উলুমে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলােচনা রয়েছে।
আমি এই দুনিয়ার এক অধম ব্যক্তি। আমি কখনো নিজেকে বড় বা মহান কেউ বা "আল্লাহর অলী/আউলিয়া" বলে দাবী করিনা। তবে আমি নিজেকে আমিল এ কামিল বলি।
যার যার আমার সাথে থাকতে মন চায় থাকবেন। অন্যথায় আমার ছবিতে জুতা মেরে চলে যাবেন।
It's upto you.
আসসালামু আলাইকুম। ফি আমানিল্লাহ।